সিদ্ধিরগঞ্জে ‘শীতকালীন পৌষের পিঠাপুলি উৎসব’ অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিনিধি:
“আমি এই মাটির সন্তান। ছাত্র অবস্থা থেকে আপনাদের ভালোবাসা
আর দোয়ায় আজ সংসদ সদস্য পর্যন্ত হয়েছি। আমি রাজনীতি করি কেবল এই এলাকার মানুষের জন্য
একটি নতুন পথ তৈরি করে দিতে, যাতে আমাদের পরবর্তী জেনারেশন আমার চেয়েও অনেক বড় নেতা
হয়ে দেশ পরিচালনা করতে পারে।”
গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের ৪নং ওয়ার্ড
এলাকায় আয়োজিত বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘শীতকালীন পৌষের পিঠাপুলি উৎসবে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে
এসব কথা বলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা
মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।
এলাকাবাসীর আয়োজনে এই উৎসবটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
গিয়াসউদ্দিন তার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমার
আগে এই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কোনো সন্তান এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হওয়ার জন্যও নির্বাচন
করেনি। আমি সেই পথটি খুলে দিয়েছি। আমি চাই আমার এলাকার ছাত্র-যুবকরা বড় স্বপ্ন দেখুক।
তারা যেন আমাকে দেখে বলতে পারে—আমাদের এই গ্রামের একজন যদি এমপি হতে পারে, তবে আমরা
কেন পারব না? আমি তাদের মনে সেই আত্মবিশ্বাসের বীজ বুনে দিতে চাই।”
তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমি একা কিছুই না। আপনাদের সমর্থন
ছাড়া আমি এক কদমও এগোতে পারতাম না। এই শেষ বয়সেও আমি দুটি নির্বাচনী এলাকায় লড়াই করছি
কেবল আপনাদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে দিতে।
বক্তব্যে তিনি স্থানীয় কিছু সুবিধাবাদী মানুষের কঠোর সমালোচনা
করেন। গিয়াসউদ্দিন বলেন, “কিছু মানুষ আছে যারা এই এলাকায় বসবাস করে সব সুবিধা নিলেও
ব্যক্তিগত স্বার্থে এলাকার মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করে। তারা টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে
আপনাদের ভোট বিক্রি করে দেয়। এরা অকৃতজ্ঞ। এই ধরনের মানুষদের মিষ্টি কথায় ভোলা যাবে
না। এদের চিহ্নিত করে সাবধান থাকতে হবে।”
নিজের অবস্থান ও যোগ্যতার সবটুকু কৃতিত্ব সাধারণ মানুষকে দিয়ে
এই প্রবীণ নেতা বলেন, “আমার কোনো অহংকার নেই, কারণ এই পরিচয় আপনাদের দেওয়া। আমি আজ
আছি কাল নেই, কিন্তু আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন গর্ব করে বলতে পারে তাদের পূর্বপুরুষরা
এই এলাকার নেতৃত্ব দিয়েছে। আসুন, আমরা সবাই মিলে নতুন আর পুরাতনের মেলবন্ধনে একটি সুন্দর
সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।”
পিঠাপুলি উৎসবে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। উৎসবের আমেজে
গিয়াসউদ্দিনের এই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য স্থানীয় ভোটার ও তরুণদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা
সৃষ্টি করেছে।

মতামত দিন